শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের মূলে বিগত সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের মূলে বিগত সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪ বার পঠিত
সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের মূলে বিগত সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘আত্মঘাতী নীতি’, চরম অদূরদর্শিতা এবং দলীয় ব্যবসায়ী বন্ধুদের স্বার্থরক্ষা করাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার তাদের অনুগত টাইকুন ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লালন-পালন করতে গিয়ে বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল এবং দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধানের দিকে কোনো নজর দেয়নি।

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নানা প্রস্তাব ও আলোচনার জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় পূর্ববর্তী সরকারের আমলের স্থবিরতা এবং নতুন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন:

  • আন্তর্জাতিক সংকট ও তেলের মূল্য সমন্বয়: নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আন্তর্জাতিক পরিসরে গালফ যুদ্ধের মতো সংকট দেখা দেয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করে। তা সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বোরো মৌসুমে সেচকাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তেলের দাম এক পয়সাও বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সহনীয় মাত্রায় মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

  • এলএনজি ও পাইপলাইন অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশের এলএনজি ঘাটতি মেটাতে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় মাতারবাড়ীতে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই স্থানে একটি ভূমিনির্ভর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য শত কিলোমিটার উন্নত পাইপলাইন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো: দেশীয় কয়লার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বড়পুকুরিয়ায় ৬০০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করতে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

  • অনশোর ও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান: দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশে অনশোর ও অফশোর দুই ক্ষেত্রেই কূপ খনন ও গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভোলায় পাওয়া গ্যাসকে কেন্দ্র করে সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের নির্দিষ্ট সময়সীমার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর খাত রাতারাতি বদলানো কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ প্ল্যান’ নীতির মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাতাস, সৌর ও কয়লার সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দুর্যোগসহনশীল জ্বালানি খাত গড়ে তুলে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দেন তিনি।



বিষয়: #



আর্কাইভ