শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গু-মাতামুহুরী
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গু-মাতামুহুরী
১০ বার পঠিত
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গু-মাতামুহুরী

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজারের দুটি স্টেশনে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ৫টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবান স্টেশনে সাঙ্গু নদীর পানির স্তর ১৪.৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার এবং লামা স্টেশনে মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর ১১.৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৬৯টিতে পানি বৃদ্ধি ও ৫৩টিতে হ্রাস পেয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টি স্টেশনের পানি। কোনো স্টেশন বন্যা সতর্কসীমা অতিক্রম না করলেও নদীসংলগ্ন আক্রান্ত জেলা হিসেবে বর্তমানে কেবল বান্দরবান ও কক্সবাজারের নাম রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারী এবং উজানে ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে। এছাড়া লামায় ২১৮, বান্দরবানে ১৯৫, ভৈরব বাজারে ১৯৩, ইটাখোলায় ১৮৮, দেওয়ানগঞ্জে ১৮৪, রাঙামাটিতে ১৬৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫৬, চিলমারীতে ১৫০, পাঁচপুকুরিয়ায় ১৪৮ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের উজানে মাওসিনরামে সর্বোচ্চ ১৮৩ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১২৬, আর কে এম সোহরায় ১১৬, কোচবিহারে ১০৪ এবং আগরতলায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ২ দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ৩ দিন দ্রুত বাড়তে পারে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীগুলো কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

একই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদীটি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুরমা নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে, তবে কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে।






আর্কাইভ