শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মাদরাসা ছাত্রীর মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার গল্প
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মাদরাসা ছাত্রীর মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার গল্প
৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মাদরাসা ছাত্রীর মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার গল্প

---

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, জন্মের পর এতদিন মেয়ে হিসেবে বেড়ে ওঠা তাদের সন্তান বর্তমানে ছেলে হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে ওই বাড়িতে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী বাদশা খলিফার ১৪ বছর বয়সী সন্তান নূরমী আক্তার স্থানীয় একটি মহিলা মাদরাসায় মাওলানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রমজান মাস থেকে তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে পরিবারের সদস্যরা পরিবর্তনগুলো স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা সন্তানকে ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং নতুন নাম রাখা হয় নূরনবী। পরে তার চুল কেটে ছেলেদের পোশাক পরানো হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নূরনবীকে দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনা আগে শুনলেও বাস্তবে দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কৌতূহলের পাশাপাশি নানা আলোচনা চলছে।

নূরনবীর চাচা সোলাইমান খলিফা বলেন, তাদের পরিবারে পরপর তিন মেয়েসন্তান জন্ম হয়েছিল। তাই এ ঘটনাকে তারা ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আবেগ বা গুজবের পরিবর্তে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখা জরুরি। ফরিদুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়–এর কর্মকর্তা, বলেন জন্মগত হরমোনজনিত বা ক্রোমোজোমগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বয়ঃসন্ধিকালে এমন জটিলতা বা ভিন্নতা প্রকাশ পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। প্রয়োজন হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদের পরামর্শ। কারণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

ঘটনাটি এখন পুরো টাঙ্গাইলজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা গুজব বা অতিরঞ্জন না ছড়িয়ে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।



বিষয়: #



আর্কাইভ