রবিবার ● ১১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » গণমাধ্যম » স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ দাবি সম্পাদকদের
স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ দাবি সম্পাদকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে উগ্রবাদ মোকাবিলা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আজ শনিবার ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে বিএনপির চেয়ারমেন তারেক রহমান সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। এই প্রথম তিনি চেয়ারমেন হিসেবে আসার পর সরাসরি সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সাংবাদিকতার গুরুত্ব
রাজনৈতিক গণতন্ত্র স্থাপনের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। বিগত কয়েক বছরে দেশের সংবাদমাধ্যম নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও চাপে পড়লেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন আশা নিয়ে জেগে উঠেছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমকে একসাথে কাজ করতে হবে উগ্রবাদ মোকাবিলা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে।
জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় জানতেন না তিনি কতটা জনপ্রিয়। তাঁর জানাজায় লোকসমাগমই প্রমাণ করেছিল জনমনে কত প্রভাব ছিল। এরপর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও আমরা দেখেছি। বর্তমান সমীক্ষা বলছে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়।” তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা কেবল ভোটে রূপান্তর না হলে তা কার্যকর হবে না। তাই বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে কার্যকর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন।
শফিক রেহমান আরও দুটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেন: বাংলাদেশ ব্যাংক লুট রোধে স্পেশাল কমিটি গঠন এবং পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিক শিক্ষায় প্রশিক্ষণ। এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, “আলাদা আইন না করে বর্তমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।”
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের চ্যালেঞ্জ
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থা ভয়াবহ। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার উত্তোলন ও নদী দূষণ মারাত্মক। আগামী রাজনীতিতে এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আশ্বাস দেন যে, বিএনপির নতুন যাত্রায় এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে তিনি সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বাধীনতার সীমা ও নিয়ন্ত্রণের বাস্তবতা
মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা কিছুটা স্বাধীন, আবার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত। সংবাদপত্রের অফিসে আগুন দেওয়া হলে ভাবতে কষ্ট হয়—আমরা বেহেশতে আছি নাকি জাহান্নামে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান পশ্চিমা বিশ্বের মিডিয়া সংস্কৃতি দেশের বাস্তবতায় আনার মাধ্যমে উগ্রবাদ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন।
রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক সংস্কার
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর মন্তব্য করেন, “রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাইলে রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিএনপি আমলে সংবাদমাধ্যমের সহনশীলতা বেশি ছিল, কিন্তু নতুন সময়ের প্রেক্ষিতে আর পুরোনো নিয়ন্ত্রণ চলবে না। সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “১৭ বছর দেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে সঠিক ইতিহাস জানা হয়নি। আমি সত্য ইতিহাস তারেক রহমানকে বর্ণনা করব।”
সমালোচনা ও দেশের সমস্যা সমাধানে দিকনির্দেশনা
তারেক রহমান সম্পাদকদের উদ্দেশে বলেন, “সমালোচনা প্রয়োজন, তবে শুধুমাত্র সমালোচনার জন্য নয়। এমন সমালোচনা চাই যা দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।”
গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির তালিকা
অনুষ্ঠানে সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, নূরুল কবীর, মাহমুদুর রহমান, এ এম এম বাহাউদ্দিন, এনায়েত উল্লাহ খান, আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজ, ইনাম আহমেদ, তৌফিক ইমরোজ খালিদী, আলতামাশ কবির, কামাল উদ্দিন সবুজ, জাফর সোবহান, শাহেদ মুহাম্মদ আলী, কামরুল হাসান, সালাহ উদ্দিন বাবর, হানিফ মাহমুদ, শামসুল হক জাহিদ, আবু তাহের, মারুফ কামাল খান সোহেল, মো. রেজাউল করিম, শামসুল আলম লিটন, সন্তোষ শর্মা, মোস্তফা কামাল, শহীদুল ইসলাম, সালেহ বিপ্লব উপস্থিত ছিলেন।
টেলিভিশন ও বেতার প্রধানদের মধ্যে মাহবুব আলম (বিটিভি), জেড এম জাহেদুর রহমান (বেতার), জুবায়ের আহমেদ (সময় টিভি), শাইখ সিরাজ (চ্যানেল আই), আবদুল হাই সিদ্দিকী (বাংলা ভিশন), ফখরুল আলম কাঞ্চন (এনটিভি), আবদুস সালাম (ইটিভি), ফাহিম আহমেদ (যমুনা টিভি), রেজওয়ানুল হক (মাছরাঙা), লোটন একরাম (ডিবিসি), জহিরুল আলম (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর), শফিক আহমেদ (একাত্তর টিভি), হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ (এটিএন বাংলা), জিয়াউল কবীর সুমন (বৈশাখী টিভি), শরীফুল ইসলাম খান (নিউজ টোয়েন্টিফোর), মাহমুদ হাসান (গ্রীন টিভি), গাউসুল আজম দীপু (গাজী টিভি), শহীদুল আজম (এটিএন নিউজ), ইলিয়াস হোসেন (আরটিভি), এম এ মালেক (মোহনা টিভি), ওয়ালিউর রহমান মিরাজ (স্টার টিভি), তুষার আবদুল্লাহ (এখন), মোস্তফা আকমল (ইন্ডিপেনডেন্ট), ইউসুফ আলী (মাইটিভি) উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতা
উপস্থিত সম্পাদকরা একমত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব হলে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সংবাদমাধ্যমকে শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশক হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতে হবে।





প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা: আরও ৯ জন গ্রেপ্তার
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন
ভোলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুন্নু, সম্পাদক হেলাল
রমনা থানার মামলায় সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার
ডিআরইউ’র নেতৃত্বে আবারও আবু সালেহ আকন ও মাইনুল হাসান সোহেল
সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিনে চার্জশিট
সহিংসতার সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় বিএফইউজের তদন্ত কমিটি
মুক্ত সাংবাদিকতার চর্চা পরিবেশগত সঙ্কট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে
নারীদের সমঅধিকার ও সমসুযোগ নিশ্চিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন: স্পিকার 
