শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Swadeshvumi
শনিবার ● ১০ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন
৪৫ বার পঠিত
শনিবার ● ১০ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন

---

# সংসদ নির্বাচনে এবার ভোট হবে ২৯৮টি আসনে


নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদীয় আসন পুননির্ধারণ সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুটি আসনে ভোটগ্রহণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপাতত ভোট হবে ২৯৮টি আসনে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পাবনা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২-এর সীমানা সংক্রান্ত সিএমপি নং ১১০৫/২০২৫ মামলায় আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের পেছনে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেটে পাবনা-১ আসনে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং পাবনা-২ আসনে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাই কোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট রুল জারি করে এবং রুল নিষ্পত্তি করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন। রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দুই আসন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর নির্বাচন কমিশন ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ এবং বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন ও পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

তবে হাই কোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর পাবনা-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও নির্বাচন কমিশন আলাদাভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করে। এসব আবেদনের শুনানি শেষে ৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এর ফলে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আগের গেজেট কার্যকর থাকলেও আইনি অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই অবস্থায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশন জানিয়েছে, বাকি ২৯৮টি আসনে নির্বাচনি কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।

 

 



বিষয়: #



আর্কাইভ