বুধবার ● ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটের মাঠে ৫১ নিবন্ধিত দল, স্বতন্ত্র ৪৭৮
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটের মাঠে ৫১ নিবন্ধিত দল, স্বতন্ত্র ৪৭৮

শায়লা শবনব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের দৃশ্যমান হচ্ছে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তি প্রার্থিতার প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
???? সোমবার সারাদেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২ হাজার ৫৬৯ জন
???? বিএনপি থেকে ৩৩১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন, ইসলামী আন্দোলনের ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টির ২২৪ এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ১০৪ জন
???? আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত, নির্বাচনের বাইরে থাকছে ৮টি নিবন্ধিত দল
???? গতকাল শুরু হয়েছে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত
ইসি সূত্র জানায়, ৩০০ সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে এই সংখ্যা ২ হাজার ৫৭০ বলা হলেও একই প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক স্থানে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় সাময়িক তথ্যের গরমিল তৈরি হয়। যাচাই শেষে চূড়ান্ত হিসাবে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৯ জনে।
দলভিত্তিক মনোনয়নচিত্রে এবারও বড় দলগুলোর প্রভাব স্পষ্ট। বিএনপি সর্বোচ্চ ৩৩১ জন প্রার্থী দিয়েছে। এরপর রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টি ২২৪ জন এবং গণঅধিকার পরিষদ ১০৪ জন। অন্যান্য দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংখ্যা মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে ঘন হয়ে উঠেছে।
তবে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এই বিস্তৃত চিত্রের বিপরীতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুপস্থিতি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এ ছাড়া পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে। আরও কয়েকটি নিবন্ধিত দল কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় কার্যত নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮টি নিবন্ধিত দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। এর মধ্যে ২০২৫ সালে নতুন করে নিবন্ধন পেয়েছে ৮টি দল—বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), আমজনতার দল এবং জনতার দল। নতুন ও পুরোনো দল মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণের দিক থেকে গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
অতীতের নির্বাচনের প্রার্থী বিশ্লেষণ
এদেশের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে মনোনয়নপত্র জমা ও অংশগ্রহণের চিত্রে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলগুলোর অংশগ্রহণ ও বর্জনের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা ওঠানামা করেছে।
???? ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২ হাজার ৭৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিএনপিসহ ১৪টি দল নির্বাচনের বাইরে ছিল।
???? একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ দিনে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন ছিল ৪৯৮টি এবং দলীয় মনোনয়ন ছিল ২ হাজার ৫৬৭টি। সে নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দল অংশ নেয়। বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন— এর মধ্যে ১ হাজার ৭৩৩ জন দলীয় এবং ১২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
???? দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় মাত্র ১২টি দল। সে সময় ১ হাজার ১০৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও যাচাই-বাছাই শেষে টিকে ছিলেন ৮৭৭ জন প্রার্থী। ১৫৩টি আসনে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, যা নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
???? নবম সংসদ নির্বাচনে, দল নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর, ২৮টি দল অংশ নেয় এবং প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৫৬৭ জন।
???? অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৫টি দল অংশ নিয়ে মোট ১ হাজার ৯৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
???? সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নিয়ে ২ হাজার ৫৭২ জন প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন।
???? ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৪৫০ জন এবং দল ছিল ৪২টি।
???? পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি— ২ হাজার ৭৮৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, অংশ নেয় ৭৫টি দল।
???? চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৮টি দল অংশ নিয়ে ৯৭৭ জন প্রার্থী ছিলেন।
???? তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নিয়ে ১ হাজার ৫২৭ জন প্রার্থী দাঁড়ান।
???? দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয় এবং প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১২৫ জন।
???? দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯১ জন।
এসব পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ যত বিস্তৃত হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যাও তত বেড়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় অংশগ্রহণ যত বিস্তৃত হয়, প্রতিযোগিতাও তত অর্থবহ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহফুজ আনাম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়া মানে রাজনৈতিক মাঠে বিকল্প শক্তির উপস্থিতি বাড়ছে। তবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করবে অংশগ্রহণকারী বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতার ওপর।”
ইসি ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৫–৯ জানুয়ারি আপিল, ১০–১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বদেশভূমিকে বলেছেন, “মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হবে। যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সব মিলিয়ে, দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই সমন্বিত উপস্থিতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের।





বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ
প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার শেষ দিন ১৫ মার্চ
পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভোট
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা
সকালে না, দুপুরে হ্যাঁ: শপথ গ্রহণ নিয়ে জামায়াত-এনসিপির নাটকীয়তা
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার বিকেলে
২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ
বাংলাদেশ তার ক্যাপ্টেনকে বেছে নিয়েছে: ফাহাদ করিম
২৯৭ আসনে ভোটের হার ৫৯ শতাংশ: ইসি সচিব
দুই দশক রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি 
