বুধবার ● ২৬ নভেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » অপরাধ » ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলী হলেন আব্দুল আউয়াল
৫ কোটি টাকার বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলী হলেন আব্দুল আউয়াল
![]()
শায়লা শবনম | ২৬ নভেম্বর ২০২৫
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) পদের নিয়োগ নিয়ে তীব্র অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন এক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এই দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন মো. আব্দুল আউয়াল। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র স্বদেশভূমিকে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগেও তিনি অনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন নিজ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ. দা.) উভয় পদেই থেকেছেন।
> ডিপিএইচইতে প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি ও সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ
# অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ
# ৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদ্বির-নির্ভর নিয়োগ
# নিজ জেলায় অস্বাভাবিক দীর্ঘ কর্মকাল — পদায়নবিধি লঙ্ঘন
# যোগ্য সিনিয়র কর্মকর্তারা বঞ্চিত, এনএসআই মূল্যায়ন না নিয়েই পদায়ন
# রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব ও জেলা-আধিপত্যে ক্ষমতা বিস্তার
গত ১৭ নভেম্বর ডিপিএইচই’র প্রধান প্রকৌশলীর পদে মো. আব্দুল আউয়ালকে বসানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়— যেখানে অন্তত তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই লেনদেনটি সম্পন্ন হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর ঘনিষ্ঠ এক দালালের মাধ্যমে।
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত সিনিয়র প্রকৌশলীরা
ডিপিএইচইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগযোগ্য ছিলেন ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ আরও তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তা।গত মে মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পাঁচজন কর্মকর্তার বিষয়ে এনএসআই মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাইলেও, মো. আব্দুল আউয়ালের নাম ওই তালিকায় ছিল না।
এনএসআই’র প্রতিবেদন পাওয়ার পর মীর আব্দুস সাহিদকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) করা হয়। গত ১১ নভেম্বর তার অবসরের পর স্বাভাবিক নিয়মে কর্মরত তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের সবাইকে ডিঙিয়ে আনা হয় চতুর্থ অবস্থানে থাকা আব্দুল আউয়ালকে— কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়ন ছাড়াই।
ডিপিএইচইয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের উচ্চপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এনএসআইসহ একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক হলেও এবার সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে—“নেতিবাচক প্রতিবেদন আসা নিশ্চিত” বলে।
বিধি ভঙ্গ করে নিজ জেলায় দীর্ঘ পদায়ন
সরকারি চাকরির প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, নিজ জেলায় দীর্ঘকাল কর্মরত থাকা নিষিদ্ধ। কিন্তু মো. আব্দুল আউয়াল এই বিধি বহুবার লঙ্ঘন করেছেন।
তিনি— নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ময়মনসিংহে দুই বছর, চলতি দায়িত্বে সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেড় বছর, এরপর আবারও ময়মনসিংহ সার্কেলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই স্থানে কর্মরত। এ ধরনের দীর্ঘকালীন নিজ জেলায় অবস্থানকে “নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেছেন সিনিয়র কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের প্রভাব
আউয়ালের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন নিজেকে ছাত্রলীগ/আওয়ামী লীগ পরিচয়ের বলে প্রচার করেছেন। সূত্র মতে, তৎকালীন এমপি আব্দুস সাত্তার সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ— এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তিনি জেলার অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এই নেটওয়ার্কই টেন্ডার কারচুপি, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং নিজের লোক দিয়ে ঠিকাদারি করানোকে সহজ করে দেয়।
আউয়ালের যত সিন্ডিকেট দুর্নীতি
ময়মনসিংহ ও নরসিংদী উভয় জায়গাতেই মো. আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে— টেন্ডার বাণিজ্য ঠিকাদারদের কমিশন আদায় নিজের ভাতিজার নামে “ডামি” ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নরসিংদীতে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তকে ঘুষ দিয়ে থামিয়ে দেওয়া— এসব অভিযোগ পুরনো।
ডিপিএইচই অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেটের মদদেই আউয়াল বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন দেশে-বিদেশে।
টাকার বিনিময়ে দ্রুত নথি উপস্থাপন!
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ৫ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের নথিটি “অস্বাভাবিক দ্রুততায়” উপস্থাপিত হয়। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই নথিটি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল “অস্বাভাবিক দ্রুত ও নীরব”। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন— “মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হলে জটিলতা হতো; তাই সেটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”
‘নিজ এলাকার লোক’ যুক্তি: নাকি আর্থিক লেনদেন?
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও প্রকৌশলী আউয়াল দুজনেই ময়মনসিংহের মানুষ। সচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, “নিজ এলাকার লোক হওয়ায়” তাকে পদটি দিতে সচিব উপদেষ্টাকে রাজি করান। তবে ডিপিএইচইয়ের ভেতরের আরেকপক্ষ বলছে— “মূল কারণ রাজনৈতিক প্রভাব নয়, ৫ কোটি টাকার লেনদেন।”
ডিপিএইচইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এভাবে তদবির, অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও বিধিভঙ্গের মাধ্যমে কাউকে বসানো হলে তা ভবিষ্যতে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া যোগ্য, কর্মরত তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়ন ছাড়া চতুর্থ অবস্থানের এক কর্মকর্তা কীভাবে দ্রুতগতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শীর্ষ পদে বসেন— এই প্রশ্নের জবাব এখনও কেউ দেয়নি।
# স্পেশাল- ডিপিএইচইতে প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি
বিষয়: ## ডিপিএইচই # প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি





প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
মনিরামপুরে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
হাদি হত্যাকাণ্ড: মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ডিএমপি
হাদি হত্যাকাণ্ডে ফের রিমান্ডে কবির
নোয়াখালীতে চর দখল নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৫
ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: আসামি সিকদার পরিবারসহ ৩১
ওসমান হাদি মারা গেছেন
ঝিগাতলায় হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার 
