
বুধবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » আইন-আদালত » তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানী ২১ অক্টোবর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানী ২১ অক্টোবর
নিজস্ব প্রতিবেদক
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আগামী ২১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (২৭ আগস্ট) এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে ১৪ বছর আগে আপিল বিভাগ রায় দেন। এই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে লিভ মঞ্জুর (আপিলের অনুমতি) করে এই আদেশ দেয়া হয়।
রিভিউতে লিভ মঞ্জুর করে আপিল শুনানি, নাকি রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, এ প্রসঙ্গ আজ বুধবার শুনানিতে ওঠে। এ বিষয়ে রিভিউ আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, লিভ না দিয়ে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লিভের প্রয়োজন নেই। প্রেসক্রাইভ ল নেই। প্র্যাকটিস (প্রথা) এটাও আছে লিভ মঞ্জুর করে রায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার। আবার লিভ মঞ্জুর না করেও দেয়া হয়।
শুনানি নিয়ে একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথা অনুসরণ করব। লিভ দিয়ে পুরো বিষয়টি শুনব।’
পরে আদালত লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের অক্টোবরে একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়া নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।
রিভিউ আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার ও আজ শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আজ লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেওয়া হয়। আদালত বলেছেন, আগামী ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।
আদালতে বিএনপির পক্ষে করা রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও মো. রুহুল কুদ্দুস। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল।
জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ।
পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইয়া শুনানি করেন। অপর রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় ইন্টারভেনার (ব্যাখ্যাকারী) হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। পরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির করা রিভিউ আবেদনে লিভ মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। অর্থাৎ এখন আপিলের ওপর শুনানি হবে। আগামী ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আপিলের সঙ্গে অপর রিভিউ আবেদনগুলোও শুনানির জন্য আসবে।