শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
Swadeshvumi
শুক্রবার ● ৩ মে ২০২৪
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব নিয়ে ইসির উদ্বেগ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব নিয়ে ইসির উদ্বেগ
৬৭ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৩ মে ২০২৪
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব নিয়ে ইসির উদ্বেগ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

---


# মন্ত্রী-এমপিদের উদ্দেশ্যে সংসদ সচিবালয়ে ইসির চিঠি

# দুর্গম অঞ্চল ছাড়া সব কেন্দ্রে ব্যালট যাবে সকালে

# প্রথম ধাপে মাঠে থাকবেন ৫ হাজার পর্যবেক্ষক

# বৃহস্পতিবার থেকে শুরু দ্বিতীয় ধাপের প্রচার 


শাহনাজ পারভীন এলিস

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৫ এপ্রিল মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সভা করে নির্বাচন কমিশন। সেই সভায় নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা। তাদের আশঙ্কার জবাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের নেওয়া যে কোন পদক্ষেপে কমিশন পাশে থাকবে বলে জানানো হয়। ইসি আরও জানায়, যে কোন মূল্যে এবারের উপজেলার ভোট মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাবমুক্ত দেখতে চায় কমিশন। 

ডিসি-এসপিদের আশঙ্কার পর মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই আশংকা থেকে এই নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা থেকে বিরত থাকতে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইসি সচিবের লেখা ওই চিঠির বার্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনদের কেউ প্রার্থী থাকবেন কি থাকবেন না সেটা দলীয় সিদ্ধান্ত। কারণ কোন প্রার্থী কার (মন্ত্রী-এমপির) আত্মীয়- তা নিয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা নাই। ওই বিষয়ে ইসির হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। তবে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কেউ যদি প্রার্থী থাকেন, সেই প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কোন ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে আইনি পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের কাছে সব প্রার্থীই সমান। সব প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ করতে এবং নির্বাচনকে ঘিরে প্রভাবশালীদের অনৈতিক চাপ বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পেলে তা আমলে নিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। কোন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ (তিনি প্রাথীর আত্মীয় বা পক্ষের লোক) আসলে সেই তথ্য যাচাই বা প্রমাণ ছাড়াই তার নিয়োগ বাতিল করা হবে। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার যে প্যানেল থাকবে সেখান থেকে অন্যকাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্যানেলে যোগ্য লোক না পেলে প্রয়োজনে পাশে জেলা বা উপজেলা থেকে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ প্রিজাইডিং অফিসারের কোন অভাব নাই। তবে কোন রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলে তার প্রমাণ অবশ্যই দাখিল করতে হবে। 

উপজেলা নির্বাচনকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রভাবমুক্ত রাখতে মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা সফর করছেন নির্বাচন কমিশনাররা। এ পর্যায়ে রংপুরে আছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা জেলার সব উপজেলার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে ইসি। নির্বাচনে প্রভাবশালীরা কোনরকম প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হয় না; তিনি এমপি-মন্ত্রী যেই হোন না কেন!’ নির্বাচনি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা, নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে মাঠের পরিস্থিতি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ব্যালট পেপার পাঠানোর ব্যাপরেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কেবলমাত্র দুর্গম এলাকার (পার্বত্য এলাকা, চর, দ্বীপাঞ্চল বা হাওর এলাকা) কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকালে ওইসব ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে। ব্যালট পেপার ছাড়া অন্য নির্বাচনি মালামাল ভোটগ্রহণের আগের দিন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অন্যান্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে যে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সেই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৭৬ উপজেলায় এবার চার ধাপে ভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ১৯টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচনের সময় এখনো না হওয়ায় পরবর্তীতে সে সব উপজেলায় নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে ১৪৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণ দিয়ে শুরু হবে ভোটের আনষ্ঠানিকতা। গত ২৩ এপ্রিল প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রথম ধাপের উপজেলাগুলোতে জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছেন ১ হাজার ৬৯৩ প্রার্থী। এছাড়া বেশ কিছু উপজেলায় তিনটি পদে ২৬ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

ইসি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে ভোট পরিস্থিতি দেখতে মাঠে থাকবেন ৪ হাজার ৯৫৯ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ২৬৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪ হাজার ৬৯২ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে। এ্ই ধাপে মঙ্গলবার ভোটে অংশগ্রহণকারী ২ হাজার ৫৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৭৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় চূড়ান্ত প্রার্থী এখন ১৮২৮ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই মাঠের প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। পরবর্তী তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ ২৯ মে ও চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২২ টি, দ্বিতীয় ধাপে ২৪টি, তৃতীয় ধাপে ২১ ও চতুর্থ ধাপে দু’টি উপজেলায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

ভোটে ইসির উদ্বেগ/এলিস



বিষয়: #



আর্কাইভ