শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » নভেম্বর ইউপি ভোট নয়, পিছিয়ে যাচ্ছে ইসির রোডম্যাপ
প্রচ্ছদ » ইসি ও নির্বাচন » নভেম্বর ইউপি ভোট নয়, পিছিয়ে যাচ্ছে ইসির রোডম্যাপ
১ বার পঠিত
সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নভেম্বর ইউপি ভোট নয়, পিছিয়ে যাচ্ছে ইসির রোডম্যাপ

---

# নভেম্বরের রোডম্যাপে সরকারের আপত্তি, জানুয়ারিতে ভোট শুরুর পরামর্শ

শায়লা শবনম

নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আপত্তিতে সেই রোডম্যাপ এখন পুনর্বিবেচনার মুখে। ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন না করে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু করার পরামর্শ এসেছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততা, সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয় সামনে এনে এ মত দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেছেন, জানুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও সেটিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ শিগগিরই তাদের মতামত ইসিকে জানাবে। ফলে ১৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত সাত ধাপের প্রাথমিক রোডম্যাপ এখন নতুন হিসাবের মুখে পড়েছে।

  • নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট নয়, জানুয়ারিতে শুরুর পরামর্শ
  • ৬ জুনের মধ্যে ৪,৫৮০ ইউপির নির্বাচন শেষ করার চ্যালেঞ্জ
  • পরীক্ষা, রমজান ও সরকারি কর্মসূচির ফাঁকে ভোটের সময় খোঁজা হচ্ছে
  • সময় সংকটে ধাপ কমানো বা ব্যবধান পুনর্বিন্যাসের ভাবনা
  • প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাজেট সমন্বয়ের বড় পরীক্ষা
  • চূড়ান্ত রোডম্যাপ নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় মতামত পর্যালোচনা করবে ইসি

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা একমত হয়েছেন। তবে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ তখনও চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় সময়ের সংকট রয়েছে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই উপযুক্ত সময় বের করতে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

এখন ইসির সামনে প্রশ্ন শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ভোট সরিয়ে নেওয়া নয়। জানুয়ারিতে শুরু হলে কত ধাপে, কোন তারিখে এবং কীভাবে প্রশাসনিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ৬ জুনের মধ্যে পুরো নির্বাচন শেষ করা যাবে—সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।

ভোটের পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতা

ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট নেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলো ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে করার সম্ভাব্য তারিখও বিবেচনায় ছিল। তবে কমিশন শুরু থেকেই জানিয়েছিল, এগুলো চূড়ান্ত তফসিল নয়।

১৫ সেপ্টেম্বরও কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু বৈঠকের পর সেই প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা নভেম্বর-ডিসেম্বরকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল মনে করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ, প্রশাসনের অন্যান্য দায়িত্ব—সব মিলিয়ে ওই সময়ে মাঠপর্যায়ে বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নভেম্বরের বদলে জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু হলে ইসিকে একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে—একদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির সমন্বয় করা, অন্যদিকে ৬ জুনের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮০ ইউনিয়নের নির্বাচন শেষ করা।

৬ মাসে সব ইউপিতে ভোটের চ্যালেঞ্জ

এখানেই সবচেয়ে বড় বাস্তব চ্যালেঞ্জ। দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। এত বিপুলসংখ্যক ইউপির নির্বাচন সাত ধাপে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ইসির। নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত সময়কে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে ভোট আয়োজনের হিসাব করা হয়েছিল। এখন জানুয়ারিতে শুরু করলে নির্বাচন শেষ করার কার্যকর সময় আরও কমে যাবে।

প্রতিটি ধাপের জন্য মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ, প্রচার ও ভোটগ্রহণ— সব পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত সময় রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, নির্বাচনি সামগ্রী সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন, পরিবহন এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনাও করতে হবে।

অর্থাৎ সময় কমানো মানেই শুধু দ্রুত ভোট নেওয়া নয়; একই সঙ্গে বিপুল প্রশাসনিক কাজও কম সময়ে শেষ করতে হবে। ফলে ধাপের সংখ্যা কমানো হলে একদিকে সময় বাঁচবে, অন্যদিকে একই সময়ে বেশি ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের কারণে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ বাড়তে পারে।

রমজান-এসএসসির ফাঁকে কতটা সময়?

ইসির সময়ের হিসাবকে আরও জটিল করে তুলছে ধারাবাহিক কয়েকটি জাতীয় কর্মসূচি। জানুয়ারিতে ভোট শুরু হলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসবে। ফলে নির্বাচনের জন্য কার্যকর সময় সীমিত হয়ে আসতে পারে। ইসি কমিশনার সানাউল্লাহও বৈঠকের পর সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। এ কারণে জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু হলেও সব ধাপকে একই ব্যবধানে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। রমজান ও পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনযোগ্য সময়কে কয়েকটি পর্বে ভাগ করতে হতে পারে। ফলে প্রশ্ন শুধু ‘কখন নির্বাচন হবে’ নয়; ‘কোন ধাপে কোন এলাকায় কখন ভোট হবে’—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তফসিল ঘোষণার সময়ও বড় প্রশ্ন

ইউপি নির্বাচনে ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতির কথা ইসি জানিয়েছিল। জানুয়ারিতে প্রথম ধাপের ভোট নিতে হলে ডিসেম্বরের শুরুতেই তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ডিসেম্বরেও পরীক্ষা ও জাতীয় কর্মসূচির ব্যস্ততা থাকলে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিতেও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রয়োজন হবে। ফলে ভোটের তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি তফসিল ঘোষণার সময়, নির্বাচনি এলাকার তালিকা, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি এবং মাঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন—সবকিছুর জন্য আগাম পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় পরীক্ষা

ইউপি নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ের একটি নির্বাচন হলেও এর বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি স্থানীয় পর্যায়ে। একই সময়ে বেশি এলাকায় ভোট হলে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকেও নভেম্বর-ডিসেম্বর এড়িয়ে জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা, বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য দায়িত্বের বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় ও বাজেট সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। অর্থাৎ ইসির হাতে সময় কমলেও মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা একই সময়ে বাড়বে না। ফলে সময়সূচি নির্ধারণের সঙ্গে প্রশাসনিক সক্ষমতার হিসাবও মিলিয়ে নিতে হবে।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বিবেচনায়

দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় নির্বাচন চললে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে—এমন বিষয়ও আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনায় এসেছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়। তাই নির্বাচনকে দীর্ঘ সময় ধরে না চালিয়ে তুলনামূলক কম সময়ে শেষ করার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে একই সময়ে বেশি এলাকায় ভোট আয়োজন করলে মাঠ প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে সময় কমানো এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে ইসির অন্যতম প্রধান কাজ।

সমন্বয়েই সমাধান দেখছেন জেসমিন টুলী

ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলীর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বাস্তবে তা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তাই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার ও ইসির মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় বাস্তবতার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও জরুরি। তবে তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—সমন্বয় যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণ না হয়। কারণ নভেম্বরের পরিকল্পনা থেকে সরে জানুয়ারিতে ভোট শুরু হলে ইসির হাতে থাকা সময় আরও সংকুচিত হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশন সভায়

ইসির পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্বদেশভূমিকে বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছি ঘোষিত সম্ভাব্য তারিখগুলো চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত নিয়ে আমরা খুব শিগগিরই কমিশন সভায় বসবো। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভোটের পরবর্তী রোডম্যাপ এবং সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।’ অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, সেটি এখন আর আগের অবস্থায় নেই। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না হলে জানুয়ারিতে প্রথম ধাপ শুরু করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের মতামত এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সুপারিশ পর্যালোচনা করেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষের লক্ষ্য

সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হলে ইসির সামনে অন্তত তিন স্তরের পরীক্ষা থাকবে। প্রথমত, সীমিত সময়ের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮০ ইউনিয়নের ভোটকে বাস্তবসম্মত কয়েকটি ধাপে ভাগ করা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার জনবল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা একই ছকে আনা। তৃতীয়ত, রমজান ও বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে ভোটের সময় সমন্বয় করা। এর সঙ্গে রয়েছে নির্বাচনি বাজেট, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনি সামগ্রী, প্রশিক্ষণ, পরিবহন ও আচরণবিধি বাস্তবায়নের বিষয়। ফলে পূর্বঘোষিত সাত ধাপের পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি সময়ের চাপ সামলাতে ধাপের সংখ্যা ও ব্যবধান পুনর্বিন্যাস করা হবে—সেটিও এখন ইসির বিবেচনায় আসবে।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ইউনিয়ন পরিষদ বাদে দেশের ১২ সিটি করপোরেশন, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ ও ৩৩০ পৌরসভায় মোট ৮৯৮ জন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। কিন্তু এখন সেই উদ্যোগের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। নভেম্বরের পরিকল্পনা থেকে জানুয়ারিতে সরে গেলে হাতে থাকা সময় কমে যাবে। আবার ধাপ কমিয়ে বা ব্যবধান সংকুচিত করে ভোট শেষ করতে গেলে প্রশাসনিক চাপ বাড়বে। আর রমজান, এসএসসি পরীক্ষা ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সময় সমন্বয়ের বিষয়টিও রয়েছে।

প্রেক্ষাপট এমন যে, ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসির সামনে এখন শুধু ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণের প্রশ্ন নয়; বরং সীমিত সময়ের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮০ ইউনিয়নের নির্বাচনকে কীভাবে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা যায়—সেটিই বড় পরীক্ষা। নভেম্বরের পরিকল্পনা থেকে সরে জানুয়ারিতে শুরু করতে হলে ৬ জুনের সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত, সুনির্দিষ্ট ধাপ নির্ধারণ এবং সরকার-ইসির কার্যকর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



বিষয়: #  #



আর্কাইভ