রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

- দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা | বিগত ১৫ বছরের ঋণের দায় বইতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে | ব্যক্তির দুর্নীতির জন্য ইমোশনাল হয়ে কোম্পানি বন্ধ করা উচিত নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। গত ৩০ জুনের হিসাবে এসব ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। একই সঙ্গে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ছাড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।
জনতা ব্যাংকেই খেলাপি ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি
অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩০ জুনের হিসাবে রাষ্ট্রীয় ছয় ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকে ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ, রূপালী ব্যাংকে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ এবং সোনালী ব্যাংকে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খেলাপি রয়েছে।
এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয়টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা
দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণও এক লাখ টাকার সীমা ছাড়িয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।
তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারের নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা আগেভাগে নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৫ বছরের ঋণের দায় বর্তমান সরকারের ওপর
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে নেওয়া অপরিকল্পিত ঋণ এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের বিশাল দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। ওই সময়ে নেওয়া বিপুল ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব প্রকল্পের পৃথক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো উপায় নেই।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ব্যক্তির দুর্নীতির দায়ে কোম্পানি বন্ধ নয়
কোনো কোম্পানির মালিক দুর্নীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তির দুর্নীতির কারণে আবেগতাড়িত হয়ে পুরো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোম্পানি একটি পৃথক আইনগত সত্তা। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে কর্মসংস্থান নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ব্যক্তি ও কোম্পানির দায় আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ যাবে ৬০ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী।
কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পোল্ট্রি, ডেইরি, কৃষি ও সেচযন্ত্র, হিমাগারসহ বিভিন্ন আয় উৎসারী ও পল্লি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এ ঋণ বিতরণ করা হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে আরও গতিশীল করা।
এ ছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দুই পর্যায়ে ২ হাজার কোটি টাকা প্রাক-অর্থায়ন ঋণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অডিট ভীতি কমাতে কর ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ
করদাতাদের অডিট ভীতি ও হয়রানি কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পৃথক করা হলে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ কমবে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা হলে করদাতাদের মধ্যে আস্থা বাড়বে।
অর্থমন্ত্রীর আশা, কর ব্যবস্থায় জটিলতা ও অডিট-ভীতি কমানো গেলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে এগিয়ে আসবে। এতে রাজস্ব আহরণ বাড়ার পাশাপাশি দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও উন্নত হবে।
সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের চাপ কমানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
বিষয়: #রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: সংসদে





সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সম্পদ দান করার পরও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: সংসদে বিল পাস
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে
মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ: সংসদে আইনমন্ত্রী
মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল সংসদে পাস
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ওপর আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ 
