রবিবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল সংসদে পাস
মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল সংসদে পাস
![]()
# মানবাধিকার বিলে বিরোধী দলের আপত্তি, আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগের অভিযোগে ওয়াকআউট
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্যবস্থা রাখার অভিযোগ তুলে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিরোধিতা করে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলগুলো নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মানবাধিকার বিলে ‘দ্বৈত প্রয়োগের’ অভিযোগ
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ জনমত যাচাইয়ের জন্য উত্থাপনের পর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দুই ধরনের তদন্তপ্রক্রিয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ কোনো ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথম নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তী করণীয় কী হবে, সে বিষয়েও আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথম জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্বিতীয়বার জবাব চাওয়ার পর তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই অপরাধের ক্ষেত্রে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে আলাদা প্রক্রিয়া কেন থাকবে—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও এ দেশের নাগরিক। আইনের চোখে সবার সমান অধিকার ও দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার সুযোগ থাকায় বিরোধী দল এ আইন পাসের অংশীদার হতে চায় না। এ কারণে তারা ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে বাবা-মায়ের আজীবন ভোগস্বত্ব
অন্যদিকে, ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলের প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রাখতে পারবেন। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে। গ্রহীতা দাতার জীবদ্দশায় মারা গেলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে; তবে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব বহাল থাকবে।
নিবন্ধনের পর এ ধরনের হস্তান্তর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় হলেও প্রকৃত আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা বা পারিবারিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তা পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
শরিয়াহ ও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে আপত্তি
বিলটি নিয়ে সংসদে ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একাংশ দাবি করেন, নতুন বিধানের সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, হেবা, ফারায়েজ ও উত্তরাধিকার বিধানের সাংঘর্ষিকতা রয়েছে কি না, তা আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আলেম-ওলামা ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও সে উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো নতুন কাঠামো তৈরি করা উচিত নয়।
বিলটির মানবিক দিকের প্রশংসা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর শেষ জীবনে বাবা-মাকে ওই সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ বা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নতুন বিধানের মাধ্যমে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। এতে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি বিলটিতে আরও কিছু সুরক্ষা যুক্ত করার সুপারিশ করেন। সন্তান বাবা-মাকে অবহেলা করলে দাতা যেন এককভাবে দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন এবং সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা বন্ধক দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বিরোধী দলের ওয়াকআউট
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের জনমত যাচাইয়ের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে প্রথম দফায় ওয়াকআউট করে কয়েক মিনিট পর তারা অধিবেশনে ফিরে আসেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান পুনরায় ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, বিলটি পাসের অংশীদার হতে চান না তারা। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি জনমত যাচাই এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য আরও পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
বিরোধীদের আপত্তির জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১২২এ ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এটি প্রচলিত গিফট, মুসলিম আইনের হেবা বা শরিয়াহ আইনের আওতায় অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, নতুন বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পর দাতার স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলও পাস
এদিকে একই অধিবেশনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এর সংসদীয় কার্যক্রমও সম্পন্ন হয় এবং বিলটি পাস হয়। এর আগে বিলটি নিয়ে বিরোধী দল ও অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়াগত বিষয় এবং স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি ওঠে।
তিনটি বিল পাসের মধ্য দিয়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, গুমের প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও মানবাধিকার কমিশন ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি সংসদীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিষয়: #গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল সংসদে পাস #মানবাধিকার





সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সম্পদ দান করার পরও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: সংসদে বিল পাস
চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বা পরে
মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ: সংসদে আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ওপর আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ 
