সোমবার ● ১৮ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » বাংলাদেশের সব ইতিহাসকে একসঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে : তানজিম ওয়াহাব
বাংলাদেশের সব ইতিহাসকে একসঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে : তানজিম ওয়াহাব
বিশেষ সাক্ষাৎকার
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস আজ। ‘বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সমকালীন বাস্তবতাকে নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। জাতীয় জাদুঘরকে শিশু ও প্রযুক্তিবান্ধব আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, ৫২-৭১-২৪-এর ইতিহাসকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন গবেষণা, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার যথাযথ উপস্থাপন, অডিও গাইড ও ভার্চুয়াল প্রযুক্তি সংযোজন, এমনকি ১০ তলা নতুন এনেক্স ভবন নির্মাণ— সবকিছু নিয়েই স্বদেশভূমি অনলাইনকে দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি শায়লা শবনম।
- আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যকে আপনি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কীভাবে দেখছেন?
- এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর’ আমাদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। আমরা একটি জাতীয় ঐক্য চাই। জাদুঘর শুধু কোনো দেশের অতীত নয়, এটি বিশ্বসভ্যতারও ধারক। পৃথিবীর যেকোনো জাদুঘর এক অর্থে বৈশ্বিক সম্পদ। তাই আন্তর্জাতিকভাবেও আমাদের দায়িত্ব আছে। আমরা সেই দায়িত্বশীল জায়গা থেকেই এগোতে চাই।
- জাতীয় জাদুঘরকে শিশু ও প্রযুক্তিবান্ধব করার পরিকল্পনা কী?
- আমরা চাই জাদুঘর শিশুদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হোক। প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য রাখতে চাই। তারা শিক্ষকদের নেতৃত্বে আসবে, থাকবে শিশু-বান্ধব গাইডেড ট্যুর। এতে শিশুরা যেমন ইতিহাস জানবে, শিক্ষকরাও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাস শেখাতে পারবেন।
গেলো ৫ বছরে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী বিনামূল্যে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করেছে। শিশু কর্নার আরও বড় ও আধুনিক করা হবে। পাশাপাশি পুরো গ্যালারিকেই শিশু-বান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখনকার তরুণ প্রজন্ম ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা চায়। তাই নতুন জাদুঘরে এআই, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্সসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা সংযোজন থাকবে। বর্তমানে জাদুঘরের অধিকাংশ নিদর্শন স্টোরে সংরক্ষিত থাকলেও নতুন ভবন নির্মাণ হলে আরও বড় পরিসরে দেশের ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হবে।
- ইতিহাস উপস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসছে?
- আমরা শুধু স্মারক প্রদর্শন করতে চাই না, ইতিহাসকে গল্প আকারে বলতে চাই। বাংলাদেশের ইতিহাসকে নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন, এমনকি সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে চাই। মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে পৌঁছালাম, পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক যাত্রা কীভাবে এগিয়েছে— সেই গল্পও গুরুত্বপূর্ণ।
- জাতীয় জাদুঘরের বিশাল সংগ্রহের বড় অংশ তো প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না। এ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
- এটা সত্যি। আমাদের সংগ্রহশালায় ৯৩ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ কালেকশন রয়েছে। কিন্তু জায়গার সীমাবদ্ধতায় এর খুব সামান্য অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ৪৬টি গ্যালারিতে মাত্র ৪ হাজার ১৭৮টি নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে। এ কারণেই আমরা দীর্ঘদিনের আটকে থাকা মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমান ভবনটি সংরক্ষণ করে পাশাপাশি ১০ তলাবিশিষ্ট নতুন এনেক্স ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন গ্যালারি ও সমকালীন শিল্পকলার জন্য আলাদা স্থান থাকবে।
- দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নে কী নতুন সংযোজন আসছে?
- আমরা রেনোভেশন বলতে শুধু ভবনের সৌন্দর্য বাড়ানো বুঝি না। মানুষ এখন যেভাবে ইতিহাস জানতে চায়, সেভাবে উপস্থাপন করতে হবে। বিশ্বের উন্নত জাদুঘরের আদলে অডিও গাইড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও সহজে জাদুঘরের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতি, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ প্রবেশগম্যতা— এসব নিয়েও পরিকল্পনা করছি।
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছে?
- বর্তমানে চারটি গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্যালারির সংখ্যা বাড়বে, নতুন স্মারকও সংগ্রহ করা হবে। আমরা ইতিহাসবিদ, গবেষক ও তাত্ত্বিকদের নিয়ে একটি ছোট গবেষণা কমিটি গঠন করছি। আমরা চাই জাদুঘর একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। শুধু ক্যাপশন নয়, ইতিহাসবিদদের ভিডিও বক্তব্যও থাকবে, যাতে তরুণরা ইতিহাস নিয়ে ভাবতে পারে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থাপন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে জাদুঘরের অবস্থান কী?
- জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ৭১ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। সরকারি অবস্থান স্পষ্ট— ৭১ সবচেয়ে বেশি তাৎপর্য পাবে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে যে ভূমিকা রেখেছেন, ইতিহাসে সেই ভূমিকাকে যথাযথ স্থান দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ১৯৭১-পরবর্তী বাংলাদেশেও কী ঘটেছে, সেটাও বলা জরুরি।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানসহ (৫২, ৭১ ও ২৪)— বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে একসঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। এসব ইতিহাস নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ ইতিহাস কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। আমরা চাই জাদুঘর একটি গণতান্ত্রিক বিতর্কের ফোরাম হিসেবেও কাজ করুক।
- বঙ্গবন্ধু কর্নার যেটা আগে ছিলো সেটা নেই কেন?
- বঙ্গবন্ধু কর্নার সরানো হয়েছে, এটা সত্য। তবে কোনো নিদর্শন ধ্বংস করার অধিকার জাদুঘরের কারও নেই। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেগুলো সংরক্ষণ করা। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জাদুঘরে হামলা বা ভাঙচুরের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কিছু প্রতিকৃতি ও নিদর্শন সাময়িকভাবে সরিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কারণ আজ যেটা গুরুত্বহীন মনে হতে পারে, ভবিষ্যতে সেটাই আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই জাদুঘরে কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট করার সুযোগ নেই। ইতিহাসে যার যে স্থান, তাকে সেভাবেই উপস্থাপনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”
- জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে আলাদা জাদুঘরের অগ্রগতি কী?
- আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন। জুলাই আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় জাদুঘরেও জুলাইয়ের অংশ থাকবে। আমরা একটি ধারাবাহিক ক্রোনোলজিক্যাল ইতিহাস উপস্থাপন করতে চাই। জুলাই আন্দোলনের গবেষণার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত ১১ সদস্যের একটি বোর্ড পুনর্গঠন করা হবে।
- জাতীয় জাদুঘরের বাইরেও কি আরও কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
- অবশ্যই। শুধু জাতীয় জাদুঘর নয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে আরও বড় কিছু প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই মানুষ সে বিষয়ে জানতে পারবে। বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।
- ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
- স্বদেশভূমি পরিবারের জন্য রইলো শুভকামনা।
বিষয়: ##বিশেষ সাক্ষাৎকার #তানজিম ওয়াহাব #বাংলাদেশের সব ইতিহাস





স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংঘাতহীন দলগুলোর সহায়তা চাই: সিইসি
স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: ‘আত্মহত্যা’ করেছে ঘাতক ফোরকান
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ
হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তথ্য প্রকাশ করলো ইসি
১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বদল
‘শিশু স্বর্গ মডেল’ কর্মসূচির উদ্বোধন 
