সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সংসদে উত্তপ্ত ফ্লোর: গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিতর্ক তুঙ্গে
সংসদে উত্তপ্ত ফ্লোর: গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিতর্ক তুঙ্গে

বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদুল ফিতরের জন্য ১৩ দিন বিরতির পর পুনরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আজ রবিবার তৃতীয় দিনের অধিবেশনে সংসদে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া সংসদে কথা বলার ফ্লোরকে কেন্দ্র করেও উভয়পক্ষের এমপিদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। সংসদের নিয়ম-নীতি উপেক্ষিত হওয়ায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বারবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাব স্থগিত রেখে দাবি করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন না করে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম চালানো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোটিশ উপস্থাপন করেন, যা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন আহ্বানের জন্য। চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এটিকে ‘সর্বোচ্চ জনগুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে আগে আলোচনার আবেদন জানান।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদীয় বিধি অনুসরণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নোটিশ এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের আলোচনার বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে সরাসরি অগ্রসর হওয়া সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। এছাড়া সরকারি দলের এমপিরা ফ্লোরে কথা বলতে চাইলে বিরোধী দল পাল্টা হস্তক্ষেপ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও হট্টগোল রোধে ফ্লোরে কয়েকবার হস্তক্ষেপ করেন। ডেপুটি স্পিকার বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সংসদীয় বিধি মেনে আলোচনা করার নির্দেশ দেন।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এর মধ্যে গণভোটসহ ২০টি অধ্যাদেশে এখনো সংসদীয় কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছায়নি। বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে ১১৩টির বিষয়ে ঐকমত্য গঠন করেছে, তবে গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে রাজনৈতিক মতবিরোধ তীব্র। সংবিধান অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। এই সময়সীমার চাপ সংসদের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিভাজন দেখা যায়। একাংশ মনে করছেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয় এবং এটি সংসদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং এ ধরনের প্রক্রিয়াকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা উচিত। এ কারণে বিরোধী দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
ফ্লোরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির এক বড় কারণ হলো, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এমপিদের ভূমিকা এবং কথার সুযোগ বিতরণের অসামঞ্জস্য। বিরোধী দলের নোটিশ অনুযায়ী, জোটের একাধিক এমপি কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে ফ্লোরে দাখিল সীমিত। ফলে বিরোধী দল এমপিরা অভিযোগ করেন, সংসদ ‘গায়ের জোরে চালানো হচ্ছে’ এবং সরকারি পক্ষ পক্ষপাতিত্ব করছে। একই সঙ্গে সরকারি দলের কিছু এমপি বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আরও উত্তেজনা তৈরি করেন।
সাংসদীয় কার্যক্রমে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তিনটি মূল ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন এবং অধ্যাদেশের বৈধতা। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এবং সংসদীয় বিধি মেনে অগ্রসর হওয়া জরুরি, যেখানে বিরোধী দল সরাসরি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জোর দিচ্ছে। এ অবস্থায় পারস্পরিক অবস্থানগত দূরত্ব কমানোর কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়।
সংক্ষেপে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যু সংসদকে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ফ্লোর নিয়ন্ত্রণ, নোটিশ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব, সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান, এবং সময়সীমার চাপ—সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের এই অধিবেশন রাষ্ট্রীয় নীতি, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সংবিধান ও গণতন্ত্রের সঙ্কটকে ফুটিয়ে তুলেছে।





হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণের রায়কে উপেক্ষা না করার দাবি
সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ
সংসদকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করা গেলে দেশেও ইনসাফ কায়েম সম্ভব: শফিকুর রহমান
বিগত সময়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: ডেপুটি স্পিকার
স্বাধীনতা দিবস আজ
দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড 
