শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
Swadeshvumi
শুক্রবার ● ৬ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ঈদের খুশি কিনতে নিম্নবিত্তদের সামর্থ্যের সঙ্গে যুদ্ধ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ঈদের খুশি কিনতে নিম্নবিত্তদের সামর্থ্যের সঙ্গে যুদ্ধ
৩ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৬ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঈদের খুশি কিনতে নিম্নবিত্তদের সামর্থ্যের সঙ্গে যুদ্ধ

---

শায়লা শবনম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাকাটা। দোকানগুলোতে দেশি-বিদেশি বাহারি পোশাকের সমারোহ থাকলেও ক্রেতারা সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে কেনাকাটা করছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা শিশুদের পোশাককে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত বাজেটের মধ্যেই ঈদের প্রস্তুতি সারছেন। বলা যায়, পরিবারের জন্য ঈদের খুশি কিনতে নিম্নবিত্ত অভিভাবকদের সামর্থ্যের সঙ্গেও যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের প্রথম দিকে বিক্রি কিছুটা ধীর ছিল, তবে ১২ রমজানের পর থেকে বাজারে ক্রেতা সমাগম বাড়তে শুরু করেছে।

ঈদ এলেই নতুন পোশাকের জন্য শিশুদের আনন্দ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই আনন্দ পূরণ করতেই বাবা-মায়েরা কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিশুদের নতুন পোশাকে। গতকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ার শপিং মলে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পোশাক এবং নারীদের শাড়ি ও লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় রয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য নানা ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ফেন্সি ফ্রক, লেহেঙ্গা, গাউন, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট—সব ধরনের পোশাকই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দামে। বিশেষ করে মেয়েদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি।

বিক্রেতারা জানান, বরাবরের মতো এবারও মেয়েদের পোশাকের চাহিদা বেশি। দেশি ডিজাইনের পাশাপাশি পাকিস্তানি ও ভারতীয় থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা এবং বিভিন্ন ডিজাইনের ফেন্সি ড্রেসের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক দোকানে বাবা-মা ও শিশুদের জন্য ম্যাচিং পোশাকও রাখা হয়েছে।

বাজেটের মধ্যে খুশি কেনার চেষ্টা

নূরজাহান রোড এলাকা থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে পোশাক কিনতে এসেছেন ফখরুল ইসলাম (৫৫)। পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই বাবা প্রথমে টোকিও স্কয়ার মার্কেট ঘুরে দেখলেও দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, “মেয়ের আবদার ছিল চায়না ফেন্সি ফ্রক কিনবে। কয়েকটা দোকান ঘুরে পছন্দও হয়েছে। কিন্তু এখানে দাম অনেক বেশি। আমার সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন কৃষি মার্কেটের দিকে যাবো। দুই ছেলের জন্য পাঞ্জাবি আর শার্ট-প্যান্টও কিনতে হবে। সেখানে যদি সাশ্রয়ী দামে পাই, তাহলে সবার জন্যই কিনবো।” ফখরুলের মতো অনেক নিম্ন আয়ের মানুষই এবার বাজারে এসেছেন সীমিত বাজেট নিয়ে। তারা মূলত প্রয়োজনীয় পোশাকই কিনছেন এবং দাম তুলনা করে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখছেন।

ক্রেতাদের মধ্যে অনেকের পছন্দ একই ছাদের নিচে কেনাকাটা করা। সে কারণে টোকিও স্কয়ার অনেকেরই পছন্দের শপিং মল। সেখানে কথা হয় তাজমহল রোড এলাকার বাসিন্দা আফসানা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার দুই মেয়ে, আম্মু, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবার জন্যই ঈদের কেনাকাটা করছি। আমরা সাধারণত এখানকার টোকিও মার্কেট থেকেই বেশি কেনাকাটা করি। এখানে একই ছাদের নিচে পরিবারের সবার জন্য পোশাক পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয় এবং পোশাকের মানও ভালো।” পেশায় গৃহিণী অঙ্কন আরও জানান, কয়েকদিন ধরেই মার্কেটে আসছেন এবং ২০ রমজানের মধ্যেই কেনাকাটা শেষ করার পরিকল্পনা করেছেন।

এখনো ভিড় জমেনি গহনা ও জুতার দোকানে

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও গহনা ও জুতার দোকানে এখনো ভিড় তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত পোশাক কেনা শেষ হওয়ার পরই ক্রেতারা ম্যাচিং করে গহনা ও জুতা কিনতে আসেন। তাদের মতে, প্রতি বছরই রমজানের শেষ ভাগে এসব দোকানে ক্রেতা বাড়ে। এবারও ২০ রমজানের পর থেকে গহনা ও জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতার চাপ বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

ধীরে ধীরে বাড়ছে বিক্রি

মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ার শপিং মলের বিক্রমপুর ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, তাদের এই মার্কেট প্রায় ১১ বছর ধরে চলছে এবং তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “এবার বাজার মোটামুটি ভালোই বলা যায়। তবে জাতীয় নির্বাচন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের হাতে কিছুটা টাকার সংকট রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও কমে গেছে, যার প্রভাব ব্যবসার ওপর পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। “সরকার যখন পুরোপুরি কাজ শুরু করবে, তখন বিনিয়োগ বাড়বে, মানুষের হাতে টাকা আসবে। তখন ব্যবসাও আরও ভালো হবে বলে আশা করছি। এখন রোজার শুরু, সামনে দশ-বারো রোজার পর থেকে সাধারণত বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়তে শুরু করে,” যোগ করেন তিনি।

টোকিও স্কয়ার ছাড়াও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, সাত মসজিদ সুপার মার্কেট, আল্লাহ করিম মার্কেট এবং তাজমহল রোডের বিভিন্ন বুটিক ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেও ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এসব মার্কেটে ভিড় বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্রেতাই পরিবার নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, আগের বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা অনেক বেশি হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা। ফলে অনেকের ঈদের আনন্দ এখন সামর্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও প্রিয়জনদের খুশি রাখতেই বাজারে ভিড় করছেন তারা।






আর্কাইভ