বুধবার ● ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » নির্বাচন ও গণভোট আংশিক বিতর্কমুক্ত, প্রশ্নাতীত নয়: সুজন
নির্বাচন ও গণভোট আংশিক বিতর্কমুক্ত, প্রশ্নাতীত নয়: সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে আংশিকভাবে বিতর্কমুক্ত বলা গেলেও একে পুরোপুরি প্রশ্নাতীত বলা যায় না— এমন মূল্যায়ন দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুশাসনের জন্য নাগরিক)। পর্যবেক্ষক সংস্থাটি বলছে, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের বিজয়, গণভোট-পরবর্তী শপথ জটিলতা এবং আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা ভবিষ্যতে বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজনের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার সদস্য একরাম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি জানান, ৬৪ জেলার ৬৪টি নির্বাচনী এলাকা পদ্ধতিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করে ৯টি মানদণ্ডে নির্বাচন মূল্যায়ন করা হয়েছে। সুজনের মতে, ভোটার তালিকা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল এবং বড় ধরনের বিতর্ক দেখা যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় সব আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; অনেক ক্ষেত্রে লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। ভোটাররা ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন— এমন চিত্রই বেশি পাওয়া গেছে।
তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। কিছু আসনে প্রভাব বিস্তার, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেও কয়েকটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে সুজন।
গণভোটের ক্ষেত্রেও কয়েকটি আসনে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। সার্বিকভাবে প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ হলেও বিচ্ছিন্ন অনিয়ম ভবিষ্যতে প্রশ্নের অবকাশ রাখে বলে জানানো হয়।
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব: বড় প্রশ্ন
সুজনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, প্রায় দুই ডজন অভিযুক্ত ঋণখেলাপি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং অন্তত ১১ জন বিজয়ী হয়েছেন। অনেকে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া কয়েকজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এফ) ধারা অনুযায়ী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য বা তথ্য গোপন প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচিত সদস্যের পদ বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আইনি কাঠামো দুর্বল হলে ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তথ্য সামনে এলে কমিশন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দ্বি-দলীয়
সুজনের মতে, এবারের নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য ‘আউটকাম’ হলো দ্বিদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্থান। বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং ২৮৯ আসনে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনটি আশাতীতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুই জোটের শক্তির ভারসাম্য সমান ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াত জোট প্রায় সব আসনে বিএনপির সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। এটিকে ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে সুজন।
গণভোট ও শপথ জটিলতা
গণভোটে অনুমোদিত ৪৮টি সংস্কার বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদ সদস্যরা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার।
তার ভাষায়, গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শপথ না নেওয়া সেই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তবে ক্ষমতাসীন দল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে— সেটি কার্যকর হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচনের ইতিবাচক দিক
সব বিতর্কের মাঝেও কিছু ইতিবাচক দিকের কথা উল্লেখ করেছে সুজন। তাদের মতে, যারা ভোট দিতে চেয়েছেন তারা ভোট দিতে পেরেছেন; অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফল ঘোষণার পর বড় দলগুলোর ফল মেনে নেওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় আংশিক বিতর্কমুক্ত এই নির্বাচন ভবিষ্যতে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।





ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা, পাবেন কারা, কী সুবিধা
২ মার্চ অষ্টম জাতীয় ভোটার দিবস
সস্ত্রীক সাবেক এএসপি উত্তমের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা
বিগত সরকারের ১০০৬ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন
যাচাই-বাছাই হবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা
খলিলুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল
তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, সম্পর্ক জোরদারের আশা
চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড 
