সোমবার ● ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা না করার বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির জারি করা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা নিষিদ্ধ
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ ও কার্যধারা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
যদি কোনো মামলা ইতোমধ্যে বিচারাধীন থাকে, সেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট আদালত ওই মামলায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না এবং মামলাটি প্রত্যাহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
অধ্যাদেশের পটভূমি
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটাতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়, যা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃত। ওই সময় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালে আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবাধিকার কমিশন
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে।
তবে তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে বলা হয়েছে, যদি নিহত ব্যক্তি পুলিশ বা অন্য কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, সেক্ষেত্রে ওই বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।
তদন্ত শেষে করণীয়
মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, যদি তদন্তে দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনবোধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বিষয়: #জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জ





সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে শুধু সরকার নয় দায় এড়াতে পারে না: প্রেস সচিব
নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি
সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
চানখারপুলে ছয় হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা
‘ভালো বাপ, ভালো স্বামী হতে পারিনি, ক্ষমা করিস’: জুয়েল হাসান সাদ্দাম
সাংবাদিক মার্ক টালি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু
মৃত মাকে নিয়ে কারাগার গেটে বাবার সঙ্গে ৯ মাসের মৃত শিশুর প্রথম ও শেষ দেখা
নির্বাচন-শবেবরাত ঘিরে দুই দফায় মিলবে ৮ দিনের ছুটি 
