শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই’: আহমেদ আযম খান
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই’: আহমেদ আযম খান
৬ বার পঠিত
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই’: আহমেদ আযম খান

শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার বস্তুনিষ্ঠ তালিকা প্রণয়নে মতবিনিময়

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর ও নির্মোহভাবে সংরক্ষণ করতে শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এটাকে কলঙ্কমুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য— জাতি হিসেবে।’ তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের পাশাপাশি শহিদ ও বীরাঙ্গনাদেরও নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রণয়নে আবেগ, অনুমান বা বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর নির্ভর করা যাবে না। সরকারি ও সামরিক নথি, মুক্তিযুদ্ধকালীন রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য এবং গবেষণালব্ধ উপাত্তের সমন্বিত যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করতে হবে। সঠিক তালিকা তৈরি করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তা না হলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াব। সভায় মন্ত্রী জানান, এ মতবিনিময় একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে আরও মতবিনিময় ও পরামর্শ নেওয়া হবে।

---

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা তৈরির এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।

এসময় শহিদদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। আলোচকরা বলেন, রণাঙ্গনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী ও নারীদের তথ্যও যথাযথভাবে সংগ্রহ ও যাচা করতে হবে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্রুত সংরক্ষণ করা জরুরি। গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা, পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রশাসন, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে।



বিষয়: #



আর্কাইভ