শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » আজ সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি: দেখা যাবে মহাজাগতিক বিরল দৃশ্য
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » আজ সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি: দেখা যাবে মহাজাগতিক বিরল দৃশ্য
৫ বার পঠিত
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আজ সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি: দেখা যাবে মহাজাগতিক বিরল দৃশ্য

---

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাবে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। বিশেষ করে স্পেনের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হওয়ায় তৈরি হবে আরও বিরল এক দৃশ্য। আর এর পরই হবে উল্কাবৃষ্টি। তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন এর।

এদিন, পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে ভালো দৃশ্য দেখা যাবে আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকে। এসব অঞ্চল থাকবে পূর্ণগ্রহণের পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’-র মধ্যে।

পূর্ণগ্রহণের সময় সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। কয়েক মুহূর্তের জন্য দিনের আলো কমে গিয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে উঠবে।

স্পেনের জন্য এবারের সূর্যগ্রহণ আরও বিশেষ। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রহণ ঘটবে। ফলে সূর্য ডোবার সময় আকাশে দেখা যাবে অর্ধচন্দ্রাকৃতির সূর্য।

সূর্যগ্রহণ বিশেষজ্ঞ ও কলোরাডোর ল্যাবরেটরি ফর অ্যাটমসফেরিক অ্যান্ড স্পেস ফিজিক্সের সৌর জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. রায়ান ফ্রেঞ্চ জানিয়েছেন, স্পেনের বেশির ভাগ এলাকায় সূর্য যখন দিগন্তের কাছে থাকবে, তখন পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর্ব শেষ হয়ে যাবে। এরপর সূর্য আংশিক গ্রহণ অবস্থায় অস্ত যাবে।

তার ভাষায়, সূর্যাস্তের সময় চাঁদের কারণে সূর্যকে অর্ধচন্দ্রের মতো দেখা যাবে—যা হবে অত্যন্ত সুন্দর একটি দৃশ্য।

আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রহণ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দেখা যাবে। সেখানে পূর্ণগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথের বাইরে থাকা অঞ্চলগুলোতে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদ সূর্যের একটি অংশ ঢেকে দেবে, তবে সূর্য পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না।

উত্তর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের বড় অংশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রহণের পথ থেকে কোনো স্থান যত দূরে হবে, সেখান থেকে সূর্যের ঢেকে যাওয়া অংশও তত কম দেখা যাবে।

উদাহরণ হিসেবে নিউইয়র্ক থেকে সূর্যের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ ঢেকে যেতে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রহণের মাত্রা অনেক বেশি হবে।

যুক্তরাজ্যে এবার সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ ঢেকে যাবে। দেশটিতে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।

আলাস্কা ও উত্তর কানাডায় সকালে, উত্তর যুক্তরাষ্ট্র ও পূর্ব কানাডায় বিকেলে এবং যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, আফ্রিকা ও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে সন্ধ্যায় আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ হঠাৎ সূর্যের সামনে চলে আসে না। প্রথমে শুরু হয় আংশিক গ্রহণ। তখন মনে হয়, চাঁদ যেন সূর্যের এক পাশ থেকে ছোট একটি অংশ কামড়ে নিয়েছে।

স্থানভেদে এই আংশিক গ্রহণের পর্ব প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।

পূর্ণগ্রহণের সময় যত এগিয়ে আসবে, আকাশের আলো ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। দিনের আলো অস্বাভাবিকভাবে ম্লান হয়ে চারপাশে এক ধরনের গাঢ় অন্ধকার তৈরি হবে।

চাঁদ যখন সূর্যের সামনে দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন চাঁদের প্রান্তের বিভিন্ন উপত্যকা দিয়ে সূর্যের আলো বের হয়ে আসতে পারে। এতে চাঁদের চারপাশে ছোট ছোট উজ্জ্বল আলোর বিন্দু দেখা যাবে। এই দৃশ্যকে বলা হয় ‘বেইলি’স বিডস’।

ইংরেজ জ্যোতির্বিদ ফ্রান্সিস বেইলির নাম অনুসারে এই ঘটনার নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৩৬ সালের ১৫ মে একটি সূর্যগ্রহণের সময় তিনি এই আলোর বিন্দুগুলো লক্ষ্য করেছিলেন।

গ্রহণ দেখার সময় সতর্কতা

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গ্রহণের আগে, চলাকালে এবং পরে সূর্যের দিকে তাকানোর সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার বা সূর্যগ্রহণের বিশেষ চশমা ব্যবহার করতে হবে।

যারা পূর্ণগ্রহণের পথের বাইরে থাকবেন, তারাও অনলাইনে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পারবেন। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি স্পেনের তেরুয়েলের জাভালামব্রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে পূর্ণগ্রহণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে। নাসাও গ্রহণের বিভিন্ন স্থান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে।

একই রাতে আরেক মহাজাগতিক উৎসব

সূর্যগ্রহণের উত্তেজনা শেষ হওয়ার আগেই আকাশে দেখা যাবে আরও একটি আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বছরের অন্যতম সেরা উল্কাবৃষ্টি পারসেইডস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

অর্থাৎ একই সময়ে মানুষ একদিকে বিরল সূর্যগ্রহণ এবং অন্যদিকে উল্কাবৃষ্টির দৃশ্য দেখার সুযোগ পেতে পারে। ফলে বুধবার রাতের আকাশ মহাকাশপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।






আর্কাইভ