শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » উন্মুক্ত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রথম দিনেই জাদুঘরে ঢুকতে বিশৃঙ্খলা
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » উন্মুক্ত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রথম দিনেই জাদুঘরে ঢুকতে বিশৃঙ্খলা
১৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

উন্মুক্ত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রথম দিনেই জাদুঘরে ঢুকতে বিশৃঙ্খলা

---

শায়লা শবনম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। তবে প্রথম দিনেই দেখা গেছে দুই বিপরীত চিত্র। একদিকে নতুন এই জাদুঘর ঘিরে মানুষের প্রবল আগ্রহ, অন্যদিকে টিকিট সংগ্রহ ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতায় চরম ভোগান্তি। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কখন প্রবেশ করতে পারবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টার আগেই জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে কয়েক শ দর্শনার্থীর দীর্ঘ সারি। বৃষ্টির মধ্যেও অনেকে ছাতা মাথায়, আবার কেউ ভিজেই অপেক্ষা করছেন। কেউ সন্তানকে নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ শুধু জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস জানার আগ্রহে দূর-দূরান্ত থেকে রাজধানীতে এসেছেন।

টিকিট নিয়ে বিভ্রান্তি, ক্ষোভ দর্শনার্থীদের

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার অফলাইনে কোথা থেকে টিকিট পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও ছিল না কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা। অনেকেই জানতেন না আগে অনলাইনে সময়ভিত্তিক স্লট বুকিং করতে হয়। ফলে এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ঘুরে সময় নষ্ট করেছেন।

নোয়াখালী থেকে বাবার সঙ্গে জাদুঘর দেখতে আসা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “গতকাল এসেছিলাম, ঢুকতে পারিনি। তাই আজ আবার এসেছি। কিন্তু আজও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

গাজীপুর থেকে আসা মো. রাকিব বলেন, “সকাল নয়টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় তিন ঘণ্টা হয়ে গেছে। কিন্তু কখন ঢুকতে পারব, কেউ কিছু বলছে না।”

জুরাইন থেকে আসা ফয়জুল হোসেন বলেন, “আমরা জুলাই যোদ্ধা। সকাল আটটা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। দুইবার বৃষ্টিতে ভিজেছি। অনলাইনে টিকিট কাটতে পারি না। অফলাইনেও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা দেখব কীভাবে?”

সাভার থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা রাজ বলেন, “অনলাইনে দেখাচ্ছে কয়েক দিনের সব স্লট বুকড। অফলাইনে কোথায় টিকিট পাওয়া যাবে, সেটাও বুঝতে পারছি না।”

একই অভিযোগ করেন সাভারের মো. রানা। তাঁর ভাষায়, “অনলাইনে টিকিট পাইনি, কাউন্টার থেকেও কিনতে পারছি না। এখনো ভেতরে যেতে পারিনি।”

ফার্মগেট থেকে ছেলেকে নিয়ে আসা বাবলু আক্তার বলেন, “কখনও কিছু মানুষকে ঢোকানো হচ্ছে, আবার গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কী নিয়মে প্রবেশ করানো হচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

তথ্য দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি

সরেজমিনে দেখা যায়, জাদুঘরের নিরাপত্তায় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও দর্শনার্থীদের তথ্য দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো তথ্যকেন্দ্র বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। ফলে টিকিট, প্রবেশের সময় কিংবা স্লট সংক্রান্ত তথ্য জানতে এসে দর্শনার্থীরা একে অপরের কাছেই জানতে চাইছিলেন।

নড়াইল থেকে আসা আব্দুল কাদের বলেন, “একবার বলা হচ্ছে অনলাইনে টিকিট থাকলে ঢোকা যাবে, আবার বলা হচ্ছে অফলাইনে টিকিট কাটা যাবে। একেক সময় একেক কথা বলা হচ্ছে। অন্তত একটি তথ্যসেবা কেন্দ্র থাকলে মানুষ এত ভোগান্তিতে পড়ত না।”

জাদুঘর নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই

অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে কোনো ভাটা দেখা যায়নি। অনেকেই বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সাবেক গণভবনে নির্মিত এই জাদুঘর ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।

দর্শনার্থীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনের প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনটি নির্ধারিত স্লটে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, সীমিত ধারণক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই সময়ভিত্তিক স্লট ও অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনের টিকিট-সংক্রান্ত ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ বিষয়ে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






আর্কাইভ