শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার শঙ্কা
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার শঙ্কা
১ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার শঙ্কা

---

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, একই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে পানি বৃদ্ধি-কমার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনও বেড়ে ৪৫টি পয়েন্টে পৌঁছেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার কোনো নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পাউবোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহজুড়ে জেলার নদ-নদীর পানি কমছিল। তবে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৯ জুলাই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ মিটার নিচে নেমে গিয়েছিল। এর আগে ২৯ জুন ও ১৪ জুলাই দুই দফায় নদীটির পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পানি কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। এই ওঠানামার কারণেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার চারটি উপজেলায় অন্তত ৪৫টি স্থানে ভাঙন চলছে। দুই সপ্তাহ আগেও ভাঙনের পয়েন্ট ছিল ২৫টি।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায়। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালীরখামার এলাকার শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এছাড়া সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এবং ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর এবং চর চৌমোহনেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

নতুন করে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ও জিওব্যাগ ধসে দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষিরভিটা গ্রামেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।






আর্কাইভ