শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
বুধবার ● ১৭ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছা নিয়েই বড় প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছা নিয়েই বড় প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬ বার পঠিত
বুধবার ● ১৭ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছা নিয়েই বড় প্রশ্ন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং তাদের নিজভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন অনেকাংশেই মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন :

# ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জন রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার
# বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন রোহিঙ্গা

# আইওএম ও আইআরসি’র মাধ্যমে ৬,৪০৯ জনকে ভিনদেশে পুনর্বাসন  

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে বিশেষ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আবারও বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যা বিশ্বের ১০৫টি দেশের সমর্থন পেয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৪ সালে ৪৯টি এবং ২০২৫ সালে কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়টিতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।



বিষয়: #



আর্কাইভ