শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
Swadeshvumi
বৃহস্পতিবার ● ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » স্বাধীনতা দিবস আজ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » স্বাধীনতা দিবস আজ
১৬ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২৬ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

স্বাধীনতা দিবস আজ

---

স্বদেশভূমি ডেস্ক

আজ ২৬ মার্চ, ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের শুরুটা হয় এই দিনে। এরপর ৯ মাসের প্রাণপণ যুদ্ধের পর বাঙালি জাতি পায় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

দিনটি উপলক্ষ্যে সারাদেশে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারিভাবে এবং দলীয় ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি রেখেছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও স্মরণে দিনটি পালিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব দেশ ও দশের ওপর পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে একটি স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে। এ সময় দৃঢ় জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম খুব জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, সিটি করপোরেশন এবং ঢাকার দৃশ্যমান উঁচু ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরাও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার ও জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

২৬ মার্চ সকাল ৮টায় দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি’র বিভিন্ন ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ ২৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু ইত্যাদি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে দিবসটি উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলে বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রে উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র, শিশু উন্নয়নকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে পুনর্বাসনকেন্দ্র ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে এদিন সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এসব উদ্বোধন করেন।






জাতীয় এর আরও খবর

সংসদে উত্তপ্ত ফ্লোর: গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিতর্ক তুঙ্গে সংসদে উত্তপ্ত ফ্লোর: গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিতর্ক তুঙ্গে
হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: প্রধানমন্ত্রী হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণের রায়কে উপেক্ষা না করার দাবি রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণের রায়কে উপেক্ষা না করার দাবি
সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ
সংসদকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করা গেলে দেশেও ইনসাফ কায়েম সম্ভব: শফিকুর রহমান সংসদকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করা গেলে দেশেও ইনসাফ কায়েম সম্ভব: শফিকুর রহমান
বিগত সময়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিগত সময়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: ডেপুটি স্পিকার সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: ডেপুটি স্পিকার
দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড

আর্কাইভ