শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » রাজস্ব ফাঁকি, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে অনিয়মে কঠোর সরকার
প্রচ্ছদ » জাতীয় » রাজস্ব ফাঁকি, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে অনিয়মে কঠোর সরকার
১০ বার পঠিত
রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাজস্ব ফাঁকি, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে অনিয়মে কঠোর সরকার

---

# কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, ইচ্ছাকৃত ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

# প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তাধীন, পাঁচ ব্যাংকের ফরেনসিক অডিট চলছে

# নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৭ শতাংশ সুদে ঋণ, স্টার্টআপে ৪ শতাংশ সুদে বিশেষ সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজস্ব ফাঁকি রোধ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। একই সঙ্গে অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা

অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর ফাঁকি প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে করপোরেট করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে এপিআইভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং কাস্টমস বিভাগে ১ হাজার ৭০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে বহাল রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে।

ব্যাংক খাতে অনিয়মে কঠোর অবস্থান

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো আর্থিক খাতে একটি চলমান ‘ক্লিনিং প্রসেস’ পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

পাঁচ ব্যাংকের ফরেনসিক অডিট

সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, একীভূত হওয়া পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর আওতায় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এতে সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। অবসায়নাধীন ব্যাংকের আমানতকারীরা রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। আগে সুরক্ষার বাইরে থাকা ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ১১টি এবং ২০২৫ সালে আরও পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ

তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এসব ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

এ ছাড়া স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধাও অব্যাহত থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।



বিষয়: #  #



আর্কাইভ