শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ১৫ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সন্ত্রাস–দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত: ড. কামাল হোসেন
প্রচ্ছদ » জাতীয় » সন্ত্রাস–দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত: ড. কামাল হোসেন
১৩৬ বার পঠিত
সোমবার ● ১৫ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সন্ত্রাস–দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত: ড. কামাল হোসেন

গণফোরাম আয়োজিত স্মরণসভা

গণফোরামের প্রয়াত সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ—এমন মন্তব্য করেছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে গণফোরামের প্রয়াত সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সরকারকে সেই জাতীয় প্রত্যাশার প্রতি সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, একদলীয় নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের কারণে দেশে জবাবদিহির পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

 

◆ অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান।

◆ অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য।
◆ গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ঐক্যের ওপর জোর রাজনৈতিক নেতাদের।

◆ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের আহ্বান। 

স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও জনগণের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সে লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য এবং একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক হতাশা আরও বাড়বে। তাই গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

স্মরণসভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। দেশের স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় বাম, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করতে গিয়ে কেউ যদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, তা জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। আমার কাছে একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন তোলা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।’

স্মরণসভায় প্রয়াত মোস্তফা মোহসীন মন্টুর রাজনৈতিক অবদান ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাঁর মেয়ে শ্রাবণী মোস্তফা এবং ভাই তৌফিক এহসান স্মৃতিচারণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম আলতাফ হোসেন, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সুরাইয়া বেগম।

বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার সংগ্রামে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর রাজনৈতিক আদর্শ ও আপসহীন অবস্থান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



বিষয়: #



জাতীয় এর আরও খবর

মিষ্টির আসনে এলিজা এমপি হচ্ছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ মিষ্টির আসনে এলিজা এমপি হচ্ছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ
ইনানীতে মাটি খুঁড়তেই আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ ইনানীতে মাটি খুঁড়তেই আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস
জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বকে সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বকে সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ
ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের
মহিলা বাদ নতুন নাম ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ মহিলা বাদ নতুন নাম ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’
সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁওয়ে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁওয়ে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
এনআইডি সার্ভার আপডেট, বন্ধ অনলাইন সেবা এনআইডি সার্ভার আপডেট, বন্ধ অনলাইন সেবা
ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, তদন্ত করছে পুলিশ ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, তদন্ত করছে পুলিশ
‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী ‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী

আর্কাইভ