শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২
Swadeshvumi
মঙ্গলবার ● ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বাড়িভিটা দখল করে মসজিদ নির্মাণ
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বাড়িভিটা দখল করে মসজিদ নির্মাণ
১৪১ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বাড়িভিটা দখল করে মসজিদ নির্মাণ

---

বিশেষ প্রতিনিধি

পাবনার ফরিদপুরের উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটা দখল কওে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত নির্মাণকাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিঘুলিয়া গ্রামের বড়াল নদীর পাড়ে পৈতৃক বসতভিটায় বসবাস করতেন শামসুল আলম টুনু। বর্তমানে তিনি সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় ফজল আবুল হাসান ও তার সহযোগীরা শামসুল আলমকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সেই জাল কাগজের (সনদ) ভিত্তিতে তার মূল্যবান জমিটি মসজিদের নামে লিখে দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, দখল করা ওই জমিতে টাইলস বসানো দৃষ্টিনন্দন একটি সুদৃশ্য মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মসজিদটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এদিকে মসজিদটি উদ্বোধনের আগেই এমন জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসল্লিরা হতবাক হয়ে পড়েন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কয়েকজন ব্যক্তি তালা ভেঙে নামাজ পড়ার উদ্যোগ নিলেও জমির প্রকৃত মালিকদের বাধার মুখে জামায়াত অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।

শামসুল আলমের ছেলে আহমেদ আক্তার জ্যোতি জানান, অভিযুক্ত ফজল আবুল হাসান জমি কিনেছেন দাবি করে খারিজের কপি দেখালেও কোনো দলিল দেখাতে পারেননি। এতে আমাদের সন্দেহ হয় এবং পরে আমরা জানতে পারি আমার জীবিত বাবাকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া সনদ নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে প্রভাবশালীরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

শামসুল আলম টুনুর পুত্রবধূ ও সমাজকর্মী আসমা আক্তার লিজা জানান, আমি সমাজের বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই অথচ আমরাই বঞ্চনার শিকার। আমার স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি এভাবে ক্ষমতার দাপটে দখল করে নেওয়া হবে তা ভাবতেও পারিনি। তারা শুধু জমি দখলই করেনি, আমরা যখন আমাদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়েছি, তখন আমাদের নানাভাবে লাঞ্ছিত ও অপমান করা হয়েছে। একজন জীবিত মানুষকে মৃত মানুষ বানিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজ তারা করেছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমাদের ভিটেমাটি ফেরত চাই। শুধুমাত্র শামসুল আলম নন, প্রতিবেশী আরও অনেকের জমি এই মসজিদের ভেতরে জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম জানান, তার ৩ শতাংশ জায়গা নিয়ে বিরোধ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এখানে মসজিদ হওয়া সম্ভব নয়।

আরেক ভুক্তভোগী ইব্রাহিম সিপাহী বলেন, আমার বাবা ২০০৫ ও ২০০৬ সালে দুটি দলিলে ১২ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। যার দুটি দাগই মসজিদের ভেতরে পড়েছে। মসজিদ নির্মাণের সময় তারা বলেছিল জায়গা বুঝিয়ে দেবে, কিন্তু উদ্বোধনের তারিখ হয়ে গেলেও আমরা জায়গা বুঝে পাইনি। বাধ্য হয়ে আমরা মসজিদে তালা দিয়েছি।

অভিযুক্ত ফজল আবুল হাসানের ভাই আলতাফ হোসেন অভিযোগের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে শামসুল আলম টুনুকে মৃত দেখানো আমাদের একটি ভুল হয়েছে। তবে শামসুল আলমের জমির ওপর মসজিদ নির্মাণ হয়নি।

ফরিদপুর থানার ওসি শামীম আকঞ্জি জানান, তারা বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি মন্তব্য করেন, মসজিদ ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা। জমি জালিয়াতির ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যে রকম নির্দেশনা দিবেন সেই মোতাবেক পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।






আর্কাইভ