রবিবার ● ২৫ ডিসেম্বর ২০২২
প্রচ্ছদ » জাতীয় » দেশের স্বার্থের বাইরে বঙ্গবন্ধুকন্যা কিছু করে না: শেখ হাসিনা
দেশের স্বার্থের বাইরে বঙ্গবন্ধুকন্যা কিছু করে না: শেখ হাসিনা
:![]()
শাহনাজ পারভীন এলিস
বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থের বাইরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কিছু করে না। বাংলাদেশে এতটুকু স্বার্থ আমার জীবন থাকতে নষ্ট হবে না। কারও হাতে তুলে দেব না। আমার এই প্রতিজ্ঞাই ছিল। হয়তো সে কারণে আমরা আবার আসতে পারিনি। তাতে আমার কোন আফসোস নেই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও বাধাকে মোকাবেলা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, ‘আঘাত আসবে, ষড়যন্ত্র হবে- কিন্তু সেইসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবে। সেটাই আমরা চাই।’
![]()
প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যে নিজস্ব অর্থায়নের পদ্মা সেতু নির্মাণের গৌরবগাঁথাও তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল। দুর্নীতি করে টাকা বানাতে আসিনি। আমার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর আমি চার চারবার প্রধানমন্ত্রী। আমাদের পরিবার দুর্নীতি যদি করত, তাহলে দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারতাম না। আমরা দেশের মানুষকে দিতে এসেছি, মানুষের জন্য করতে এসেছি। এ কারণেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে- এটা অন্তত আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে এটা মেনে নিতে পারি না।’
এসময় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই পারে দেশের উন্নয়ন করতে, এটাই বাস্তবতা।’ করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাফল্য, করোনা প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকা দেয়া এবং ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেয়ার বিষয়গুলো তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার বিশদ বিবরণ না দিলেও দিয়েছেন ইঙ্গিত।
![]()
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোটকে বিতর্কিত করে নানা মানুষ নানা কথা বললেও এ দেশের মানুষের নিজের ভোট নিজে দেয়ার যে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে তা আওয়ামী লীগই প্রতিষ্ঠা করেছে। আমি জানি এই ভোট অনেকেই কন্ট্রোভার্সিয়াল করতে চায়, অনেকে অনেক কথা বলেন, কিন্তু আমরা সেটা করেছি।’ নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগে নতুন আইন প্রণয়নসহ তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। একই সাথে আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন।
সরকার প্রধান বলেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তার সরকার আইন করে দিয়েছে। আর সেই আইন মোতাবেকই মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করছে। সেখানে আমরা আওয়ামী লীগ কোন হস্তক্ষেপ করি না। আগে নির্বাচন কমিশনের কোন আর্থিক সক্ষমতা ছিল না। সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে রাখা ছিল, যেটা আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্বাচন কমিশনের হাতে দিয়ে দিয়েছি। বাজেট থেকে সারাসরি তাদের টাকা দেয়া হয়। যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং বেশকিছু স্থানে ইভিএম চালু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইভিএম করার পরে আর কোন ভোট জালিয়াতি করার সম্ভাবনা রয়েছে কি-না, তা আমার জানা নেই।
![]()
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আমরা ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২ পাশ করেছি। আমাদের যদি জনগণের ভোট চুরির দুরভিসন্ধি থাকতো তাহলে আমরা এই আইন কেন করলাম? খালেদা জিয়ার মতো ঐ আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন আমরা করতে পারতাম। তাতো আমরা করি নাই। কারণ আমাদের জনগণের ওপর আস্থা আছে, বিশ^াস আছে। সেই বিশ^াস নিয়েই আমরা চলি।’
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কারও ভোট চুরি করলে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয় না। এদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। তখন গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, আন্দোলন হয়েছিল। খালেদা জিয়া ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। আর ৩০ মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। বাংলার জনগণ তাকে বাধ্য করেছিল। বাংলাদেশের নির্বাচন কী ছিল? নির্বাচন মানেই ছিল, আমরা যেটা বলতাম ১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা। এই নির্বাচনি সংস্কার, এটা কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, মহাজোট মিলে আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর যে কাজ করুক, আমাদের জেল খাটাক আর যা-ই করুক তারা অন্তত সেই প্রস্তাবের কিছু কাজ বাস্তবায়ন করে গেছে।’ ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ্ব ব্যালেট বাক্সের প্রচলন আওয়ামী লীগের সদিচ্ছার কারণেই বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
![]()
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুদ্ধের জের ধরে দেয়া নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সরকারপ্রধান। তাই বিশ্ব জুড়ে শান্তি স্থাপনে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে রাশিয়া-ইউক্রেনকে উসকানি না দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত। উন্নত ধনী দেশগুলো আজকে অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে। বাংলাদেশে আমরা এখনও আমাদের অর্থনীতি সচল রাখতে পেরেছি। কিন্তু তারপরও এর আঘাতটা তো আমাদের ওপরে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘সব বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে আমরা দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। এই যে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, একটা বাধা করোনা আর যুদ্ধ। এ জন্য আমার আহ্বান, আমরা যুদ্ধ চাই না। ওই যুদ্ধ চাই না, স্যাংশন চাই না। ওগুলো বন্ধ করেন। সকল দেশ স্বাধীন। স্বাধীনভাবে চলার অধিকার আছে। এই অধিকার সকল দেশের থাকতে হবে। যুদ্ধ মানুষের ক্ষতি করে। যুদ্ধের ভয়াবহতা কী আমরা জানি। ওই ৭১ সালে বন্দিখানায় ছিলাম। আমার প্রথম সন্তান জয় ওই বন্দিখানায় জন্ম নিয়েছিল। আমাদের পাকিস্তান হানাদার বাহিনী একটা কম্বল দিয়েছিল।’
![]()
পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিসহ এ খাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন লোডশেডিং দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা জানান, ‘এখন ধীরে ধীরে সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে, মিতব্যয়ী হতে হবে। কারণ এই বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস ক্রয়ে অনেক খরচ হয়, এ কথা মাথায় রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশের মানুষের ওপর আবার শোষণ-বঞ্চনা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা কী চেয়েছিলেন? তিনি চেয়েছিলেন, এ দেশটি হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা- এই সুযোগটা তিনি করে দিয়ে এদেশটাকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় তিনি তা পারেননি।’
এসময় ৬ বছরের নির্বাসন জীবন ছেড়ে ১৯৮১ সালে ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ সময়ে দেশে ফেরার কারণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই স্বাধীনতা যাতে ব্যর্থ না হয়, স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, তৃণমূলের মানুষ যেন সেই সুযোগ পায়, সেটা নিশ্চিত করাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এই বাংলাদেশকে আমরা কিন্তু এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’ টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়: #দেশের স্বার্থের বাইরে বঙ্গবন্ধুকন্যা কিছু করে না: শেখ হ





ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা
জাতীয় সংসদের বরাদ্দ প্রস্তাব ২৯১ কোটি টাকা
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা
নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫,১৯৬ কোটি টাকা
শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব
কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ
নতুন পে-স্কেল ঘোষণা, কার বেতন কত?
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার সারসংক্ষেপ
বাজেটের ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু 
