শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ভূমিধসে ঝুঁকি কমাতে হিউম্যান রাইটস এর জরুরি পদক্ষেপ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ভূমিধসে ঝুঁকি কমাতে হিউম্যান রাইটস এর জরুরি পদক্ষেপ
১০২ বার পঠিত
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভূমিধসে ঝুঁকি কমাতে হিউম্যান রাইটস এর জরুরি পদক্ষেপ

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সাম্প্রতিক ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করে দ্রুত ঝুঁকি হ্রাস ও আশ্রয়কেন্দ্র উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। পাহাড় কেটে তৈরি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বাঁশ ও ত্রিপলের অস্থায়ী ঘরগুলো বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত থাকায় শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং দাতা দেশগুলোর উচিত শিবিরের অতিরিক্ত ভিড় কমানো এবং বাঁধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক, জরুরি স্থানান্তর কেন্দ্র ও পাহাড় সুরক্ষার জন্য অর্থায়ন পুনর্বহাল করা।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, প্রতি বর্ষাতেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শিবিরগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এমন নীতির ফল, যা শরণার্থীদের জীবনকে পূর্বানুমেয় ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ হাজার ১১৯ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সময় ৯৫টি ভূমিধসে ৪ হাজার ৩০৭ জন বাস্তুচ্যুত হন, ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৩টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এ ছাড়া শিক্ষা কেন্দ্র, টয়লেট, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সড়ক, সিঁড়ি, সেতু ও প্রতিরোধ দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিলেও অনেকেই আশ্রয় হারানোর ভয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে রাজি হননি।

এইচআরডব্লিউর সঙ্গে কথা বলা এক পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রকৌশলী বলেন, শুরু থেকেই পাহাড় কেটে পরিকল্পনাহীনভাবে শিবির নির্মাণ করা হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে অর্থের অভাবে টেকসই ভূমিধস প্রতিরোধক অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছে না।

সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আসা এক রোহিঙ্গা জানান, নতুন আগতদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আশ্রয় বরাদ্দ না থাকায় তিনি পাহাড়ের কিনারায় নিজেই একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। গত ৬ জুলাই সেই পাহাড় ধসে তাঁর দুই মেয়ে ও দুই নাতি-নাতনির মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর এ বছরের মে মাস পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৫২ হাজার নতুন রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তবে বিদ্যমান শিবির সম্প্রসারণের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) অতিরিক্ত জমির আবেদন করলেও বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মানবিক সহায়তাকর্মীরা বলছেন, শিবিরে জায়গার অভাবে জরুরি স্থানান্তর কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গোপনীয়তা, স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবার ঘাটতি থাকায় অনেক শরণার্থী সেখানে যেতে অনিচ্ছুক।

এইচআরডব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকার তুলনামূলক শক্তিশালী অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ৫০ হাজার আশ্রয় পুনর্র্নিমাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেমে যায়।

সংস্থাটি বলেছে, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাকে স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। দাতা দেশগুলোর উচিত নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণ, পাহাড় স্থিতিশীল করা, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

বর্তমানে আশ্রয় ও শিবির ব্যবস্থাপনা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৪২ শতাংশ পাওয়া গেছে। এখনও প্রায় ৭ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আরও ২ কোটি ৩২ লাখ ডলারের অর্থসংকট রয়েছে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কেবল উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। পরবর্তী ভূমিধসের অপেক্ষায় না থেকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।






জাতীয় এর আরও খবর

মিষ্টির আসনে এলিজা এমপি হচ্ছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ মিষ্টির আসনে এলিজা এমপি হচ্ছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ
ইনানীতে মাটি খুঁড়তেই আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ ইনানীতে মাটি খুঁড়তেই আগুন, ঝুঁকি এড়াতে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস
জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বকে সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বকে সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ
ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের
মহিলা বাদ নতুন নাম ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ মহিলা বাদ নতুন নাম ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’
সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁওয়ে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁওয়ে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
এনআইডি সার্ভার আপডেট, বন্ধ অনলাইন সেবা এনআইডি সার্ভার আপডেট, বন্ধ অনলাইন সেবা
ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, তদন্ত করছে পুলিশ ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, তদন্ত করছে পুলিশ
‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী ‘আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। ক্ষতি আপনারই হবে’: মতিউর রহমান চৌধুরী

আর্কাইভ