শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
Swadeshvumi
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ
৯ বার পঠিত
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

---

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার পর  তার মরদেহ রাজধানীর ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সময় আজ সোমবার (৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের ভেতরে লাখো ইরানি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের কাছে এই অনুষ্ঠানগুলো শুধু শোক প্রকাশের আয়োজন নয়, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু। প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব আয়োজনে। এর মাধ্যমে ইরান একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। সেটি হলো খামেনি নিহত হলেও তার গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের জনসমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে।

এরপর ৭ জুলাই তার মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লব-পরবর্তী সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল গড়ে তোলেন। তার শাসনামলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।






আর্কাইভ